Latest News
ফাইল লোপাট’-এর অভিযোগে উত্তপ্ত বেলিয়াবেড়া ব্লক অফিস, ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য ১৩ জন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন মাত্র একজন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ক্ষোভ ও আক্ষেপ বিপজ্জনক কাঠের সেতুতে নিত্য যাতায়াত, ওড়িশা কোস্ট ক্যানেলের উপর কংক্রিটের সেতু গড়ার দাবিতে সরব বাদলপুর হাইকোর্টের নির্দেশে ঘাটাল শহরে উচ্ছেদ হচ্ছে চার দশকের পুরনো বাজার, চরম অনিশ্চয়তায় ব্যবসায়ীরা শূন্যস্থান পূরণে ওস্তাদ ‘অন্যরা’, জুন্টার হাত ধরেই উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরিয়া দিল্লি আরশোলা’দের রুদ্রমূর্তি! পরীক্ষা-দুর্নীতির প্রতিবাদে মার্কিন মুলুক ছেড়ে সোজা যন্তরমন্তরে সিজেপি কর্ণধার
Home » Uncategorized » হাইকোর্টের নির্দেশে ঘাটাল শহরে উচ্ছেদ হচ্ছে চার দশকের পুরনো বাজার, চরম অনিশ্চয়তায় ব্যবসায়ীরা

হাইকোর্টের নির্দেশে ঘাটাল শহরে উচ্ছেদ হচ্ছে চার দশকের পুরনো বাজার, চরম অনিশ্চয়তায় ব্যবসায়ীরা

Share:

 

ঘাটাল: আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল শহরের প্রায় চার দশকের পুরনো একটি সবজি বাজার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ঘাটাল মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ওই বাজার এলাকার দখলদারদের জায়গা খালি করার নোটিস ধরানো হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। উচ্ছেদের পর বাজারটি ঠিক কোথায় স্থানান্তরিত করা হবে, সে বিষয়ে ঘাটাল পুরসভা এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি। ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই প্রশাসন জায়গাটি খালি করার জন্য নোটিস জারি করেছে। প্রশাসন এই পদক্ষেপ করলে বর্তমান জায়গায় বাজারটির আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না, তবে বিকল্প হিসেবে সেটিকে কোথায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তা এখনও স্থির করা যায়নি।

ঘাটাল শহরের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এবং পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ঘাটাল ও দাসপুর থানা এলাকার বেশ কিছু গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন সবজি কেনাকাটার জন্য এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। পুরসভা তৈরির প্রথম দিকে শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডেই একমাত্র সবজি বাজারটি অবস্থিত ছিল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ‘প্রগতি সঙ্ঘ’ নামক একটি ক্লাবের উদ্যোগে ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাস্তার ধারে, পূর্ত দফতরের অফিসের উল্টোদিকে এই নতুন সবজি বাজারটি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে বাজারটি শহরের কোন্নগর এলাকার একটি নির্দিষ্ট পরিবারের ব্যক্তিগত জমিতে এবং বাকিটা পূর্ত দফতরের জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ওই নির্দিষ্ট জায়গার মালিকানার অধিকার নিয়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের সঙ্গে জমি মালিকের আইনি লড়াই চলছিল। স্থানীয় সূত্রের খবর, সেই আইনি বিতর্কের সুযোগ নিয়েই ওই জায়গার ওপর ‘প্রগতি বাজার’ নামের এই বিশাল বাজারটি গড়ে ওঠে। অবশেষে ২০২৩ সালে আদালত এক রায়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, ওই জায়গা থেকে বাজারটি সরিয়ে জমির মালিকদের হাতে জায়গাটি ফিরিয়ে দিতে হবে। অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল আমলের প্রশাসন আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনও উদ্যোগই গ্রহণ করেনি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই হাইকোর্টের নির্দেশ পালনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রশাসন। মহকুমা প্রশাসনের তরফ থেকে বর্তমান ব্যবসায়ীদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় সরে গিয়ে পরিকাঠামো না ভাঙলে প্রশাসন কড়া হাতে সমস্ত কিছু ভেঙে জায়গা দখলমুক্ত করবে।

এই প্রগতি বাজারে বর্তমানে ১৫০টি অস্থায়ী স্টলের পাশাপাশি বহু প্রান্তিক চাষিও নিয়মিত তাঁদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে আসেন। শ্রীপুরের বাসিন্দা নেপাল মণ্ডল, রেখা খাঁড়া কিংবা কামালপুরের স্বর্ণলতা সিংয়ের মতো অনেকেই বিগত তিন-চার দশক ধরে এই বাজারে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবসা করে আসছেন। আচমকা বাজার তুলে দেওয়ার নির্দেশে তাঁরা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের এই ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ, কিছুদিন আগেই তাঁদের বাজারের অস্থায়ী চালাগুলি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অথচ পুরসভার তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত বিকল্প কোনও জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। রুটিরুজি হারানোর আশঙ্কায় এবং বিকল্প রোজগারের জায়গার অভাবে বর্তমানে এই ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম উড়েছে।

Leave a Comment