নয়া দিল্লি, ৩ জুন, ২০২৬:
বিশ্বকাপ ফুটবল মানে কেবল নব্বই মিনিটের ঘেরাটোপে বন্দি কোনও জ্যামিতিক কাটাকুটি নয়, এ আসলে এক চিরন্তন টাইম-মেশিন। যেখানে অতীত আর বর্তমানের টাইমলাইন মিলেমিশে এক অদ্ভুত হাইপার-রিয়েলিটি তৈরি করে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের মেগা মঞ্চ যখন প্রস্তুত হচ্ছে, তখন এই টুর্নামেন্টের স্ক্রিপ্টে লেখা হতে চলেছে এক অন্যরকম পরাবাস্তব আখ্যান। এ আখ্যান উত্তরাধিকারের, এ আখ্যান ডিএনএ-র মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই মায়াবী ফুটবলের, যা এক প্রজন্ম থেকে অবলীলায় সঞ্চারিত হয় পরের প্রজন্মে। এবার মেক্সিকো, কানাডা আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘাসে এমন কিছু রাজপুত্র নামবেন, যাঁরা কেবল দেশের জার্সি গায়ে চাপাবেন না, বইবেন তাঁদের বাবাদের ফেলে আসা এক পাহাড়প্রমাণ নস্টালজিয়া আর ঐতিহ্যের ভার।
প্যারিসের মেটা-ভার্স থেকে যেন উঠে আসবেন ১৯৯৮-এর বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি কিংবদন্তি লিলিয়ান থুরাম। তবে নিজে নন, তাঁর সেই চেনা ক্ল্যাসিক ডিফেন্স আর আগ্রাসনের ব্লু-প্রিন্ট এবার দেখা যাবে ছেলে মার্কাস থুরামের পায়ে। ঠিক একইভাবে, ব্যালন ডি’অর জয়ী লাইবেরিয়ার রূপকথার নায়ক জর্জ উইয়ার সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে সত্যি করার মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে নামবেন টিমোথি উইয়া। ফুটবল মাঠের এই মনোলগ এখানেই থামবে না। ক্লদিও রেইনার মতো মহাতারকার ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে জিওভানি রেইনা চাইবেন নিজের এক স্বাধীন সত্তা তৈরি করতে।
বাবার নামের এই ভারী ব্যাগেজ বয়ে বেড়ানো কি খুব সহজ? আধুনিক স্পোর্টস-সাইকোলজি বলছে, এ এক অদ্ভুত স্নায়ুর পরীক্ষা। গ্যালারিতে বসা কোটি কোটি মানুষের অবচেতনে তখন চলবে এক অদৃশ্য তুলনা। তাঁরা ছেলের প্রতিটি পাস, প্রতিটি ড্রিবলিংয়ে খুঁজবেন বাবার সেই পুরনো অ্যালগরিদম। কিন্তু এই নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা জানেন কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার এই চড়া দাগের যুগে নিজেদের ফোকাস ধরে রাখতে হয়। তাঁরা নিজেদের মতো করেই আধুনিক ফুটবলের যান্ত্রিকতা ও গতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন।
সবুজ গালিচার এই মহারণ যেন এক টানটান পোস্ট-মডার্ন উপন্যাস, যেখানে আগের খণ্ডের ফেলে আসা চরিত্ররা নতুন মোড়কে ফিরে আসে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ কেবল দলগত লড়াইয়ের মেগা-ইভেন্ট হয়ে থাকবে না; ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এ হয়ে উঠবে এক মনস্তাত্ত্বিক ব্রিজ, যা নব্বইয়ের দশকের সেই ক্ল্যাসিক ফুটবল রোমান্সের সঙ্গে আজকের ডেটা-নির্ভর ফুটবলকে এক সুতোয় বেঁধে দেবে। বাবার ফেলে আসা সেই বুটের ছাপগুলো যখন ছেলের দৌড়ে নতুন করে প্রাণ পাবে, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে তা চিরকালের মতো এক অমলিন স্মৃতি হয়ে ‘বুকমার্ক’ হয়ে যাবে।







