সুনীপম মহাকুল, খড়িকামাথানি, ২০ এপ্রিল: জঙ্গলমহলের চিরাচরিত উচ্চকিত স্লোগান আর পরিচয়ের রাজনীতির পরিচিত ছক সরিয়ে সোমবার এক ভিন্ন মেজাজের সাক্ষী থাকল নয়াগ্রামের খড়িকামাথানি। চেনা জাতিগত সমীকরণ বা ‘জঙ্গলরাজ’-এর চড়া সুর সরিয়ে এদিন সিপিআই(এম)-এর নির্বাচনী সভায় প্রাধান্য পেল কাজ, চাষ আর কর্মসংস্থানের মতো মানুষের জীবনের বুনিয়াদি প্রশ্নগুলি। খড়িকামাথানি চকের দুর্গা মণ্ডপের সামনে আয়োজিত এই সভায় বাম প্রার্থী পুলিন বিহারী বাস্কে উন্নয়নের ‘অর্ধসমাপ্ত’ বাস্তবকে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভসরাঘাট ব্যারেজ প্রকল্প। পুলিনবাবুর দাবি, এলাকায় সেতু হলেও ব্যারেজ না হওয়ায় সুবর্ণরেখার জল আজও কৃষি জমিতে পৌঁছয়নি, যার ফলে থমকে আছে এলাকার কৃষিভিত্তিক বিকাশ। এই উন্নয়নের অসম্পূর্ণতার সঙ্গেই এদিন প্রকট হয়ে উঠল কর্মসংস্থানের অভাব ও পরিযায়ী শ্রমিকদের তীব্র সমস্যা। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার পলিটব্যুরো সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী। চড়া স্লোগানের বদলে তাঁর মেপে নেওয়া ভাষণে ধরা পড়ল প্রশাসনিক দূরত্ব আর জনমানসের হতাশার কথা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিনের সভায় যুবশক্তির উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও অনেক পুরনো ও পরিচিত মুখকে পুনরায় ভিড়ে দেখা গিয়েছে। জঙ্গলমহলের মাটিতে পরিচিতির রাজনীতির পরিবর্তে ‘কাজ ও চাষে’র এই যে ‘হার্ড ইস্যু’গুলো এদিন নতুন করে প্রতিধ্বনিত হল, তা আগামীর নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।







