

সীমানায় বড় বড় বোর্ড—“ওয়েলকাম টু ওডিশা”, “ওয়েলকাম টু ওয়েস্ট বেঙ্গল”—দুই রাজ্যের আনুষ্ঠানিক সম্ভাষণ। আর ঠিক তার নীচেই চলছে বাস্তবের রাজনীতি—নাকা চেকিং, তল্লাশি, নজরদারি।
খড়িকা থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার এগোলেই শালবনের বুক চিরে ধুমসাই–পলাশমুণ্ডি সীমান্ত। বসন্তে পাতা ঝরছে, কিন্তু সেই নীরবতার আড়ালেই ভোটের আগে প্রস্তুতি টানটান।
নয়াগ্রাম থানার নেতৃত্বে রাজ্য পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। ট্রাক্টর, পিকআপ ভ্যান থেকে সাধারণ যাত্রী—কেউই নজরের বাইরে নয়। প্রশাসনের বক্তব্য, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত দিয়ে অবৈধ নগদ বা সামগ্রী পাচার রুখতেই এই কড়াকড়ি।
মাঠে দাঁড়িয়ে ধরা পড়ে আরেকটি স্তর। সিআরপিএফ জওয়ানদের একাংশ জানালেন, তাঁরা সম্প্রতি তিহার জেলে ডিউটিতে ছিলেন। সেখান থেকে সরাসরি এখানে মোতায়েন। তাঁদের কথায়, কাজের চাপ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বেতন বাড়েনি—ফলে চাপা ক্ষোভ রয়ে গেছে।
তবে একইসঙ্গে তাঁদের মূল্যায়ন—এই এলাকায় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় বড় অশান্তির সম্ভাবনাও কম। তাই সতর্ক থাকলেও ভেতরে এক ধরনের নিশ্চিন্ত ভাব কাজ করছে।
দুপুরের দিকে নাকা পয়েন্টে পৌঁছয় একটি পিকআপ ভ্যান। স্থানীয় এক যুবক নামিয়ে দেন ক্যানভর্তি খাবার। লিট্টি-চোখা নেই, কিন্তু ডাল-ভাতের সঙ্গে ‘মাছলি’ আছে। শালগাছের ছায়ায় অস্থায়ী টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিটে খাবার সেরে নেন জওয়ানরা—সময় কম, ডিউটি আগে।
এরপর সীমান্ত পেরিয়ে ওডিশার পলাশমুণ্ডি চেকপোস্টে গিয়ে ধরা পড়ে অন্য ছবি। দু’জন মহিলা কনস্টেবল ও এক হোমগার্ড—গাছতলায় বসে গল্প করছেন। যানবাহন কম, চাপও কম—হাসিঠাট্টার মধ্যেই ডিউটি চলছে।
এই দুই ভিন্ন ছবির মাঝেই বুধবার ধুমসাই নাকা পয়েন্টে পরিদর্শনে আসেন সিআরপিএফ-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট রাজু কুমার। তিনি ক্যামেরার সামনে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে জানান, সীমান্তে সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে এবং কোনও ঘটনা ঘটলে রাজ্য পুলিশের মাধ্যমেই তা দ্রুত সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।
ফিরতি পথে চোখে পড়ে আরেকটি বদল—জঙ্গলমহলের লাল মাটিতে এখন মিনি পাম্প বসিয়ে জল তুলে চাষ হচ্ছে। আগে যে জমি অনাবাদি ছিল, সেখানে এখন সবুজের রেখা।
একই সীমান্ত, কিন্তু একাধিক স্তরের বাস্তব—
কড়া নজরদারি, ডিউটির চাপ, গাছতলায় হাসি, আর দুপুরের ডাল-ভাত।
নয়াগ্রামের এই শালবন সীমান্ত তাই শুধু নিরাপত্তার গল্প নয়—






