Home » Uncategorized » পা হারানোর যন্ত্রণা, বিধায়কের প্রতিশ্রুতির পরেও আর অপেক্ষা করেনি শিবম

পা হারানোর যন্ত্রণা, বিধায়কের প্রতিশ্রুতির পরেও আর অপেক্ষা করেনি শিবম

Share:

 

গোপীবল্লভপুরের নয়াবসান গ্রামের একাদশ শ্রেণির ছাত্র শিবম দণ্ডপাট শনিবার গভীর রাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে নেয়। বাবা বালি খাদানে কাজে গিয়েছিলেন, মা পাশের ঘরে। রবিবার সকালে পরিবারের লোকজন দরজা বন্ধ দেখে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিবমের বয়স ছিল মাত্র ষোলো। ফুটবলই ছিল তার একমাত্র স্বপ্ন।
যেভাবে ভেঙে পড়েছিল জীবন
কয়েক মাস আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর চোট পান শিবম। পরীক্ষায় ধরা পড়ে পায়ে কর্কট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ওড়িশার বারিপদায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে অস্ত্রোপচার করে ডান হাঁটুর নীচ থেকে পা কেটে বাদ দিতে হয়।
এরপরেও সুরাহা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ফের ওড়িশায় নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, সংক্রমণ আরও ছড়িয়েছে — পায়ের আরও অংশ কাটতে হবে এবং করতে হবে কেমোথেরাপি। এই খবরের পরেই মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে শিবম।
বিধায়ক গিয়েছিলেন, প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন
মৃত্যুর কিছুদিন আগে স্থানীয় বিধায়ক দুলাল মুর্মু শিবমদের বাড়িতে যান। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমস্ত সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কিন্তু সেই সাহায্য আসার আগেই নিজের জীবন শেষ করে দিল শিবম। সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছিল — শিবম আর সময় দিতে পারেনি।
মাঠের দিকে তাকিয়ে কাঁদত
নয়াবসান জনকল্যাণ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক তুষারকান্তি মহাপাত্র বলেন, “বাড়ির জানলা দিয়ে মাঠের দিকে তাকিয়ে কাঁদত। মাঠে যেতে পারত না। খেলার প্রতি প্রচুর টান ছিল।” ঝাড়গ্রাম রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শুভঙ্কর খামরি বলেন, “ফুটবলের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল শিবম। খেলতে না পারার হতাশাই তাকে অবসাদে ঠেলে দিয়েছে।”
চিকিৎসকের প্রশ্ন — মানসিক সহায়তা কোথায় ছিল?
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইন্দ্রনীল সাহা বলেন, “শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি মানসিক অবসাদ তাকে গ্রাস করেছিল। ছেলেটির মানসিক চিকিৎসার খুবই প্রয়োজন ছিল, যা পরিবারের কেউ বুঝতে পারেননি।”
শিবমের মৃত্যু প্রশ্ন তুলছে — গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা সময়মতো না পৌঁছালে এই বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়।

Leave a Comment