Home » Uncategorized » গ্রামীণ আবাসন প্রকল্পে সাফল্যের জয়জয়কার: ৩ কোটি ছুঁইছুঁই পাকা বাড়ির নির্মাণ

গ্রামীণ আবাসন প্রকল্পে সাফল্যের জয়জয়কার: ৩ কোটি ছুঁইছুঁই পাকা বাড়ির নির্মাণ

Share:

গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি গৃহহীন পরিবারের জন্য পাকা ছাদ নিশ্চিত করতে মোদী সরকারের ‘সবার জন্য আবাসন’ মিশন এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল। গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (PMAY-G) প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় মিলিয়ে দেশজুড়ে অভূতপূর্ব সাফল্য লক্ষ্য করা গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই পর্যায়ে রাজ্যগুলিকে মোট ৪.১৫ কোটি বাড়ি বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৩.৯০ কোটি বাড়ির অনুমোদন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

দিল্লির পিআইবি সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, অনুমোদিত বাড়িগুলোর মধ্যে ২.৯৯ কোটি বাড়ির নির্মাণকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে, যা গ্রামীণ ভারতের কয়েক কোটি মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে বাস্তবায়িত করতে এবং সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মোট ৪,০৩,৮৮৬.১২ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। সরাসরি আর্থিক লেনদেনের (DBT) এই বিশাল অঙ্ক গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে।

এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ির নির্মাণের প্রতিটি স্তরে জিও-ট্যাগিং করা হচ্ছে। জালিয়াতি রুখতে চালু হয়েছে আধার ভিত্তিক ফেস অথেনটিকেশন এবং ‘লাইভলিনেস ডিটেকশন’ প্রযুক্তি, যা ভুয়া সুবিধাভোগী চিহ্নিত করতে সাহায্য করছে। এছাড়া ‘আবাস+ ২০২৪’ অ্যাপের মাধ্যমে স্বচ্ছতা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলা হয়েছে।

২০২৯ সালের মধ্যে মোট ৪.৯৫ কোটি গ্রামীণ বাড়ি তৈরির যে সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান অগ্রগতির হার সেই লক্ষ্যপূরণের পথকে আরও প্রশস্ত করেছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ভারত মিশন, জল জীবন মিশন এবং পিএম উজ্জ্বলা যোজনার মতো প্রকল্পগুলোকে আবাস যোজনার সাথে যুক্ত করায় সুবিধাভোগীরা এখন কেবল একটি পাকা বাড়িই পাচ্ছেন না, বরং বাড়ির সাথে শৌচাগার, পরিচ্ছন্ন পানীয় জল এবং রান্নার গ্যাসের সংযোগও নিশ্চিত করতে পারছেন। গ্রামীণ ভারতের এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর আগামী দিনে দেশ গঠনের ভিতকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment