নিজস্ব প্রতিবেদন, গ্যাংটক: পাহাড়ি রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেরোনোর ক্ষেত্রে এখন থেকে আর ক্যালেন্ডারের পাতার হিসেব কষতে হবে না। সিকিম জুড়ে ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘জোড়-বিজোড়’ বা অড-ইভেন বিধিনিষেধ অবশেষে প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য সরকার। স্বভাবতই সরকারের এই সিদ্ধান্তে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পর্যটকরা। তবে, গোটা রাজ্যে এই নিয়ম শিথিল করা হলেও ব্যতিক্রম কেবল রাজধানী গ্যাংটক। সেখানে যানজট এবং শহরের সার্বিক ট্রাফিক পরিস্থিতি বিচার করে এই জোড়-বিজোড় নিয়ম আগের মতোই বহাল থাকছে বলে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন মরসুম হোক বা নিত্যদিনের যাতায়াত, পাহাড়ের সরু রাস্তায় গাড়ির চাপ সামলাতে বেশ আটঘাট বেঁধেই এই জোড়-বিজোড় নিয়ম চালু করেছিল সিকিম প্রশাসন। নিয়ম অনুযায়ী, গাড়ির নম্বর প্লেটের শেষ সংখ্যার জোড় বা বিজোড় হওয়ার ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট দিনে রাস্তায় গাড়ি নামানোর অনুমতি মিলত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই কড়াকড়ির ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যকাজে বেশ কিছু বাস্তব অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে যানজটের সমস্যা ততটা প্রকট না হওয়ায় শেষমেশ সাধারণের সুবিধার্থে এই নিয়ম পুরোপুরি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে এখন থেকে গ্যাংটক ছাড়া রাজ্যের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো দিন স্বাধীনভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা যাবে।
তবে গ্যাংটকের চিত্রটা যেহেতু একেবারেই আলাদা, তাই সেখানে ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। পর্যটকদের অত্যধিক ভিড় এবং শহরের ঘিঞ্জি রাস্তার কারণে সেখানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা সবসময়ই এক বড় চ্যালেঞ্জ। জোড়-বিজোড় নিয়ম তুলে নিলে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিমেষেই হাতের বাইরে চলে যেতে পারে, মূলত সেই আশঙ্কা থেকেই গ্যাংটককে এই ছাড়ের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে সিকিমের অধিকাংশ জেলার মানুষ খুশি হলেও, গ্যাংটকবাসীকে আপাতত রাস্তায় বেরোনোর আগে গাড়ির নম্বরের জোড়-বিজোড় সমীকরণ মেনেই চলতে হবে।








