Latest News
ফাইল লোপাট’-এর অভিযোগে উত্তপ্ত বেলিয়াবেড়া ব্লক অফিস, ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য ১৩ জন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন মাত্র একজন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ক্ষোভ ও আক্ষেপ বিপজ্জনক কাঠের সেতুতে নিত্য যাতায়াত, ওড়িশা কোস্ট ক্যানেলের উপর কংক্রিটের সেতু গড়ার দাবিতে সরব বাদলপুর হাইকোর্টের নির্দেশে ঘাটাল শহরে উচ্ছেদ হচ্ছে চার দশকের পুরনো বাজার, চরম অনিশ্চয়তায় ব্যবসায়ীরা শূন্যস্থান পূরণে ওস্তাদ ‘অন্যরা’, জুন্টার হাত ধরেই উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরিয়া দিল্লি আরশোলা’দের রুদ্রমূর্তি! পরীক্ষা-দুর্নীতির প্রতিবাদে মার্কিন মুলুক ছেড়ে সোজা যন্তরমন্তরে সিজেপি কর্ণধার
Home » Games » মোতেরার রাজসূয় যজ্ঞে আরসিবি-র জয়মাল্য: এক অলৌকিক মহাকাব্যের কথকতা

মোতেরার রাজসূয় যজ্ঞে আরসিবি-র জয়মাল্য: এক অলৌকিক মহাকাব্যের কথকতা

Share:

আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের সেই মায়াবী রবিবাসরীয় গোধূলি হয়তো ফুরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু রেখে গিয়েছে এক চিরন্তন মহাকাব্যের সৌরভ। গুজরাত টাইটান্সকে পাঁচ উইকেটে ধুলিসাৎ করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু যখন টানা দ্বিতীয়বার আইপিএলের সোনার ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখল, তখন মোতেরার আকাশে-বাতাসে যেন এক অলৌকিক সুর বেজে উঠছিল। এ জয় কেবল বাইশ গজের আধিপত্য নয়, এ যেন এক রাজকীয় রূপকথা, যার পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে জেদ, স্বপ্ন আর বুকের ভেতরে লালন করা এক অদ্ভুত মায়াজাল। বিশ ওভারের ক্রিকেট বিনোদন এবার যেভাবে বাইশ গজে আছড়ে পড়ল, তাকে কেবল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বললে ভুল হবে, এ যেন ছিল এক ব্যাটিংশৈলীর মহোৎসব, এক পশলা শ্রাবণ মাসের মতো রানের সুনামি।

পরিসংখ্যানের শুকনো পাতা ওল্টালে অবশ্য চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। এবারের আইপিএল দেখল এক সংস্করণে সর্বোচ্চ ২৭,৪৫০ রানের এক অবিশ্বাস্য কীর্তি! বাউন্ডারির বন্যায় ভেসে গিয়েছে মাঠ— সব মিলিয়ে পড়েছে ২,৩৩২টি চার এবং ১,৪২৬টি ছক্কার মার। ৬৫ বার দলগত স্কোর পেরিয়েছে ২০০ রানের গণ্ডি, আর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হলো— ১৭ বার সফলভাবে তাড়া করা হয়েছে ২০০-র বেশি রান! কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে কি সব বোঝানো যায়? ক্রিকেট তো আসলে খাতার হিসাব নয়, ক্রিকেট হলো সেই চেনা মানুষের অচেনা হয়ে ওঠার গল্প, একলা ঘরে হেডফোন কানে চেপে ধরে রাখা আবেগের টানটান মুহূর্ত। মহেন্দ্র সিং ধোনি কিংবা রোহিত শর্মার সেই চেনা মহিমার পাশে এবার এক নতুন নাম খোদাই হয়ে গেল ভারতীয় ক্রিকেটের অমরত্বে— রজত পতিদার। ভারতের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে এই অনন্য কীর্তি গড়েও কিন্তু এই তরুণ তুর্কির পা দুটো মাটিতেই আটকে রইল। সাফল্যের এই হিমালয়-চূড়ায় দাঁড়িয়েও তিনি যেন এক স্থিতপ্রজ্ঞ ঋষি। ম্যাচ শেষে যখন চারদিকে আলোর রোশনাই আর শ্যাম্পেনের ফোয়ারা, রজত তখন শান্ত গলায় শোনালেন তাঁর পরবর্তী অভিসারের কথা। সাফ জানালেন, উচ্ছ্বাসের এই ফাগুন হাওয়া কেটে গেলেই তাঁদের পাখির চোখ হবে ট্রফির ‘হ্যাটট্রিক’। কীভাবে টানা তিনবার এই রাজমুকুট ধরে রাখা যায়, সেই রণকৌশলই এখন তাঁর ধ্যানজ্ঞান।

অথচ, এই রাজপুত্রের রাজ্যাভিষেকের গল্পটা কী অদ্ভুত! ২০২৪ সালের সেই ঝোড়ো রাতে যখন নাটকীয়ভাবে আরসিবি-র ব্যাটন তাঁর হাতে এসেছিল, তখন কি কেউ ভেবেছিল এই লাজুক ছেলেটিই একদিন ইতিহাস লিখবেন? রজত নিজেও ভাবেননি। ট্রফিটি বুকের গভীরে আগলে ধরে যখন তিনি বলছিলেন, “আরসিবির অধিনায়ক হওয়া বা এই ট্রফি তোলার স্বপ্ন আমি কখনও দেখিনি। বোধহয় এটা আমার ভাগ্যেই লেখা ছিল…”— তখন তাঁর চোখের কোণে চিকচিক করে উঠছিল এক পরম প্রাপ্তির জল। এ তো কেবল অধিনায়কের বক্তব্য নয়, এ যেন নিয়তির কাছে এক সমর্পিত হৃদয়ের আকুতি। ঠিক যেমন কোনও দীর্ঘদিনের চেনা বন্ধু হঠাৎ মধ্যরাতে এসে হাতটা চেপে ধরে বলে, “জানিস, আমি সত্যিই পেরেছি!”

রজত মাঠে আবেগ দেখান না, তাঁর শরীরী ভাষায় কোনও উগ্র আস্ফালন থাকে না। কিন্তু এই শান্ত সমুদ্রের bukei যে লুকিয়ে থাকে এক প্রলয়ঙ্কারী ঝড়, তা আরও একবার টের পেল গুজরাত। ফাইনালে বিপক্ষকে মাত্র ১৫৫ রানে বেঁধে রাখার পর, ব্যাট হাতে নেমেছিলেন ক্রিকেটের সেই চিরন্তন মহানায়ক— বিরাট কোহলি। একসময় ১৩২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আরসিবি কিছুটা চাপে পড়লেও, বিরাটের ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫* রানের সেই মায়াবী ও রাজকীয় ইনিংস বেঙ্গালুরুকে পৌঁছে দেয় এক ঐতিহাসিক জয়ের বন্দরে। বিরাটের এই নিখাদ নিষ্ঠা আর জুনিয়রদের আগলে রাখার যে অসামান্য তাগিদ, তাকেই আরসিবি-র সাফল্যের আসল চাবিকাঠি বলে মনে করেন অধিনায়ক।

চেন্নাই আর মুম্বইয়ের পর তৃতীয় দল হিসেবে আইপিএলের ইতিহাসে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই যে রাজকীয় দাপট, তার সবটুকু কৃতিত্বই রজত উৎসর্গ করেছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি আরসিবি ভক্তদের চরণে। তাঁর কথায়, “এই জয় আরও একবার শুধু আপনাদের জন্যই।”

বিজয়োৎসবের আলো হয়তো একসময় নিভে যাবে, কিন্তু মোতেরার সেই মায়াবী রাতে ট্রফি হাতে বিরাট আর রজতের সেই যুগলবন্দীর ছবি ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল। এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া আর রাজকীয় গৌরবের মিশেলে আরসিবি বুঝিয়ে দিল— তারা শুধু খেলতেই আসেনি, এসেছে মন জয় করতে, এসেছে রাজত্ব করতে। ঠিক যেমন কোনও গভীর উপন্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তার চরিত্ররা আমাদের মনের বারান্দায় হেঁটেচলে বেড়ায়, এই ২০২৬-এর আইপিএলও তেমনই এক অমলিন স্মৃতি হয়ে রয়ে গেল।

Leave a Comment