নয়াদিল্লি: ভারতের শহরাঞ্চলে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিটিআয়ন এবং ইন্টারনেট অ্যান্ড মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া-এর একটি যৌথ রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, এই বয়সী তরুণরা প্রতিদিন গড়ে ১২০ মিনিটেরও বেশি সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটায়, যা সার্বিক গড় ৯৭.৯ মিনিটের চেয়ে অনেকটাই বেশি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স এবং লিঙ্গভেদে বড়সড় পার্থক্য রয়েছে। যেখানে কমবয়সীরা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় কাটায়, সেখানে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী গ্রাহকরা মূলত বিনোদনমূলক ক্ষেত্রে প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২ মিনিট সময় ব্যয় করে থাকেন। সময়ের এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লিঙ্গগত বৈষম্যও অত্যন্ত স্পষ্ট। রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, ই-কমার্স এবং কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিতে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি সময় কাটান। বিশেষত ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ ৪৭ শতাংশ বেশি। দেশের বড় শহর বা মেগা সিটিগুলিতে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী মহিলারা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে গড়ে প্রতিদিন ৩৫.২ মিনিট সময় দেন, যেখানে ওই একই বয়সের পুরুষরা দেন মাত্র ২৪.৮ মিনিট। অর্থাৎ, মহিলাদের অংশগ্রহণ ৪২ শতাংশ বেশি। পরিষেবা মডেল নির্বিশেষে এই লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য স্থির রয়েছে। কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্লিনকিট-এ ৫৭ শতাংশ এবং ই-কমার্স অ্যাপ মিশো ও মিন্ত্রাতে যথাক্রমে ৬১ ও ৫৪ শতাংশ মহিলা গ্রাহক রয়েছেন। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, মহিলাদের কথা মাথায় না রেখে বা তাঁদের অগ্রাধিকার না দিয়ে ই-কমার্স ক্রেতাদের লক্ষ্য করে নেওয়া যে কোনও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ভুল প্রমাণিত হতে বাধ্য। কাঠামোগত প্রবণতাগুলি নির্দেশ করে যে, সামগ্রিকভাবে বিনোদনমূলক প্ল্যাটফর্মগুলিতে মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে এবং মূলত ৩৫-ঊর্ধ্ব গ্রাহকদের দ্বারাই তা পরিচালিত হয়। এর বিপরীতে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল কারিগর ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীরাই। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিনোদনের মাধ্যমগুলি মূলত গ্রাহকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম এবং সেখানে মহিলাদের সময় কাটানোর হার অনেক বেশি। এছাড়াও, মেসেজিং অ্যাপগুলিতে ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ৫৮.৬ মিনিট সময় ব্যয় করেন। অন্যদিকে, লোন এবং ক্রেডিট অ্যাপের মতো নির্দিষ্ট বিভাগগুলির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃত্রিম মেধা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাপগুলির বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশেরও বেশি।








