লালমাটির রিপোর্টার। তাঁর লেখার সিগনেচার স্টাইল পাঠকের মনে বরাবরই আলাদা দাগ কাটে। পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের খড়িকা মাথানি গ্রামের অরণ্য সন্তান। অ্যাসোসিয়েট প্রোডিউসার হিসেবে “চব্বিশ ঘণ্টা” ও “এবিপি আনন্দ” চ্যানেলে প্রায় এক দশক কাজ করেন। এরপর মাঠে নেমে রিপোর্টিংয়ে আরও এক দশকেরও বেশি সময় কাটিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন দীর্ঘস্থায়ী সাংবাদিকতা জীবন—যার পরিধি বিশ বছরেরও বেশি।
জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৮২। পিতা সুকুমার মহাকুল, মাতা নীলিমা মহাকুল। জঙ্গল, মাটি, মানুষ ও প্রান্তিক জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর সাংবাদিকতার ভিত গড়ে দিয়েছে।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মেধাবী ও কৃতী হিসেবে পরিচিত। খড়িকা মাথানি ভীমার্জুন মহাকুল হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর তমলুক হ্যামিল্টন স্কুলে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র কলেজে সাংবাদিকতা নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হন, সঙ্গে ছিল ইংরেজি ও অর্থনীতি। পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাল্টিমিডিয়া অ্যানিমেশনে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং ইগনু থেকে ক্রিয়েটিভ ইংলিশ রাইটিং-এ ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। প্রতিটি স্তরেই তিনি প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে নিজের একাডেমিক দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ছাত্র জীবন থেকেই বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ রেসিডেন্সের ছাত্র সংগঠনের সম্পাদক পদেও তিনি আসীন ছিলেন। ছোট্ট রাজনৈতিক কেরিয়ারে তিনি পথপদর্শক হিসাবে পেয়েছেন ডঃ অঞ্জন বেরা, অভীক দত্তকে।
পেশাজীবনের শুরুতে তিনি সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন স্তরে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অ্যাসোসিয়েট প্রোডিউসার হিসেবে “চব্বিশ ঘণ্টা” এবং “এবিপি আনন্দ” চ্যানেলে প্রায় এক দশক কাজ করেন। এরপর মাঠে নেমে রিপোর্টিংয়ে আরও এক দশকেরও বেশি সময় কাটিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন দীর্ঘায়ী সাংবাদিকতা জীবন—যার পরিধি বিশ বছরেরও বেশি।
এই দীর্ঘ সময়ে তিনি জি নিউজ, এবিপি, নিউজ এইটিন, এই সময়, টাইমস অফ ইন্ডিয়া প্রভৃতি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। বর্তমানে তিনি “সকালের শিরোনাম”-এর ব্যুরো চিফ হিসেবে কর্মরত। তাঁর সাংবাদিকতা জীবনে দ্যা স্টেটসম্যান চিফ রিপোর্টার উদয় বসু এবং অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ তাঁর পেশাদারিত্বকে আরও শাণিত করেছে। ইন্টারভিউ নিয়েছেন জ্যোতি বসু, প্রণব মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, কঙ্কনা সেনশর্মার মত ব্যাক্তিত্বের। সাংবাদিকতার সূত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করেছেন। বিশেষত ছোটনাগপুর মালভূমি নিয়ে তাঁর গবেষণা আজও অব্যাহত।
মাঠমুখী সাংবাদিকতাই তাঁর শক্তি। সিঙ্গুর আন্দোলন, কেমিক্যাল হাব প্রকল্প, জঙ্গলমহলের অস্থিরতা—এইসব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় তিনি সরাসরি রিপোর্টিং করেছেন। ঝাড়গ্রামের দাবানল, অরণ্য, সীমান্তবর্তী রায়বনিয়া অঞ্চল (ওড়িশা) সহ একাধিক সংবেদনশীল বিষয় তাঁর রিপোর্টিংয়ের কেন্দ্রে এসেছে। সমকালীন রাজনীতির অনেক খবরই তিনি রাজ্যের মাটিতে প্রথম ব্রেক করেছেন।
সুনীপম মহাকুল শুধুমাত্র ঘটনাভিত্তিক সাংবাদিকতায় সীমাবদ্ধ নন। জঙ্গলমহল ও সংলগ্ন অঞ্চলের ইতিহাস, পরিবেশ ও পর্যটন নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক লেখালিখি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সিমলিপাল অরণ্য এবং ঝাড়গ্রামকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর লেখার প্রভাব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়। বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখায় তাঁর দক্ষতা পাঠকমনে আলাদা করে দাগ কেটে নিয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাঁর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। “চেনা চেনা নয়াগ্রাম” এবং “মাটির খবর” নামের সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগগুলির মাধ্যমে তিনি বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে দ্রুত পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর কাজ জঙ্গলমহল ছাড়িয়ে রাজ্য, জাতীয় এবং কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরেও পৌঁছেছে; বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর পেশাগত যোগাযোগও রয়েছে।
তাঁর লেখার গভীরতা, অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি এবং মাঠের অভিজ্ঞতার জন্য তিনি একাধিকবার প্রশংসিত ও সম্মানিত হয়েছেন। বেল্লা কলেজ তাঁকে সম্মান জানিয়েছে, পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তিনি উদ্ভাবনী উদ্যোগেও যুক্ত থেকেছেন।
সুনীপম মহাকুল সেই ধরনের সাংবাদিক, যিনি বিশ্বাস করেন—সংবাদ কেবল শহরের নয়, প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কাজ সেই অদেখা, অবহেলিত বাংলাকে সামনে নিয়ে আসার এক নিরলস প্রচেষ্টা।
প্রতিবেদক – আকাশলীনা চট্টোপাধ্যায়। সহ-সম্পাদক, মাটির খবর।


ঝাড়গ্রাম সাংবাদিক | জঙ্গলমহল রিপোর্টার | পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক | গ্রামীণ সাংবাদিকতা | অনুসন্ধানী সাংবাদিক | লোকাল হিস্ট্রি গবেষক | ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজম | সিমলিপাল অরণ্য | ফিল্ড রিপোর্টার
#সুনীপম_মহাকুল
#SunipamMahakul
#MahakulReports
#VoiceOfJangalmahal
#MahakulJournalism #জঙ্গলমহল_সাংবাদিক
#ঝাড়গ্রাম_রিপোর্টার
#গ্রাউন্ড_রিপোর্টিং
#অনুসন্ধানী_সাংবাদিকতা
#FieldJournalism
#GroundReport
#InvestigativeJournalism
#RuralJournalism
#Jhargram
#Nayagram
#Jangalmahal
#WestBengalJournalist
#বাংলার_মাটি
#প্রান্তিক_বাংলা #JhargramTourism
#Simlipal
#ForestStories
#EcoTourismWB
#জঙ্গল_জীবন
#মাটির_গল্প #মাটির_খবর
#চেনা_চেনা_নয়াগ্রাম
#LocalToGlobal
#StoriesFromSoil
#DigitalJournalism








