নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি: জলের তোড় বা গভীরতা নিয়ে মানুষের মনে যে ভয় থাকে, তা দূর করে অনায়াসে জলকে জয় করার মন্ত্র শেখাচ্ছেন তিনি। আর তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগেরই এবার ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক রেডিয়ো অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ কেরলের সাঁতার প্রশিক্ষক সাজি ভালাসেরিলের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সম্পূর্ণ নিখরচায় এবং স্বেচ্ছায় সাধারণ মানুষকে সাঁতারের প্রশিক্ষণ দিয়ে ইতিমধ্যে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে জলজয়ের পাঠ দিয়েছেন কেরলের এই উদ্যোগী মানুষটি। প্রধানমন্ত্রীর গলায় তাঁর এই অনন্য কীর্তির কথা উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ।
কেরলের মতো নদীমাতৃক রাজ্যে জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা কমানোর লক্ষ্যেই এই মহৎ উদ্যোগ শুরু করেছিলেন সাজি। বছরের পর বছর ধরে ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষকেই তিনি পেরিয়ার নদীর স্রোতে সাঁতার শিখিয়ে আসছেন। তাঁর এই প্রশিক্ষণের বিশেষত্ব হল, তিনি শুধু সাঁতারের কৌশলই শেখান না, জলে নামার ভয় পুরোপুরি কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতেও সাহায্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, সাজি ভালাসেরিলের এই মিশন শুধু মানুষকে সাঁতার শেখানো নয়, বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর এক নীরব ও নিরলস সংগ্রাম। সমাজের কল্যাণে তাঁর এই নিঃস্বার্থ অবদান গোটা দেশের কাছেই এক বড় অনুপ্রেরণা।
‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের অসাধারণ সব কাজের কথা নিয়মিত তুলে ধরেন মোদী। এদিন কেরলের এই সাঁতার প্রশিক্ষকের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কীভাবে একজন সাধারণ মানুষ নিজের উদ্যোগে সমাজের এত বড় একটি সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে পারেন, সাজি তার অন্যতম সেরা উদাহরণ। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্যের তোয়াক্কা না করে, নিজের একান্ত তাগিদে ১৫ হাজার মানুষকে সাঁতার শিখিয়ে তিনি আক্ষরিক অর্থেই এক নজির গড়েছেন। দেশের শীর্ষ নেতার মুখে এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর সাজির এই মহৎ উদ্যোগ যে আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে এবং বহু প্রাণ বাঁচাবে, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।








