সবুজ গালিচার মহানাট্যশালায় তিনি অনন্য, অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গোল উদযাপনের চিরচেনা সেই ‘সিউউউ’ ভঙ্গিমা হোক কিংবা পেনাল্টি বক্সের ভেতর শরীরী ভাষার টানটান মেলোড্রামা— ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো মানেই এক নিখাদ বিনোদন। কিন্তু ফুটবলার রোনাল্ডো যখন বুট জোড়া তুলে রাখবেন, তখন তাঁর গন্তব্য কোথায়? এই ধোঁয়াশায় ঘেরা ক্যানভাসে এক নতুন হাইপার-রিয়েলিটির রং ঢেলে দিলেন ফ্রান্সের প্রাক্তন ফুটবলার তথা বর্তমান অভিনেতা ফ্রাঙ্ক লেবফ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ফুটবল ছাড়ার পর হলিউড বা রুপোলি পর্দায় পা রাখলে সিআর সেভেন সেখানেও এক দুর্দান্ত অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবেন। সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেবফ জানান, রোনাল্ডোর মধ্যে এক জাত অভিনেতার সমস্ত উপাদান মজুত রয়েছে। একজন সফল অ্যাথলিটের পাশাপাশি ক্যামেরার লেন্সকে কীভাবে নিজের ক্যারিশমা দিয়ে শাসন করতে হয়, তা পর্তুগিজ মহাতারকার চেয়ে ভালো আর কে জানেন! লেবফের ভাষায়, “ক্রিশ্চিয়ানো একজন দুর্দান্ত অভিনেতা হতে পারেন। কারণ ও যখন মাঠে থাকে, তখন প্রতিটা মুহূর্তকে ও যেভাবে পরিচালনা করে, তা এক মনস্তাত্ত্বিক পারফরম্যান্সের চেয়ে কম কিছু নয়। ও জানে কীভাবে স্পটলাইট নিজের দিকে ধরে রাখতে হয়।”
১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি ডিফেন্ডার লেবফ নিজে ফুটবলকে আলবিদা বলার পর লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে অভিনয়ের পাঠ নিয়েছেন, অভিনয় করেছেন অস্কার-মনোনীত ‘দ্য থিওরি অফ এভরিথিং’-এর মতো চলচ্চিত্রে। ফলে ফুটবল এবং অভিনয়— এই দুই ভিন্ন মাধ্যমের ব্যাকরণই তাঁর নখদর্পণে। সেই অভিজ্ঞতার আলোতেই তিনি মনে করেন, আধুনিক বিনোদন দুনিয়ার মেটা-ভার্সে রোনাল্ডো যদি তাঁর এই মায়াবী স্ক্রিন প্রেজেন্স নিয়ে হাজির হন, তবে বক্স অফিস চূর্ণ হতে বাধ্য।
রোনাল্ডোর কোটি কোটি ভক্তের কাছে এই খবরটি যেন এক টানটান পোস্ট-মডার্ন উপন্যাসের চমকপ্রদ ক্লাইম্যাক্সের মতো। ফুটবল মাঠে সিআর সেভেনের আধিপত্য হয়তো একদিন ফুরোবে, কিন্তু রূপোলি পর্দায় তাঁর এই সম্ভাব্য রাজ্যাভিষেকের গল্পটি এখন থেকেই ফুটবলপ্রেমী ও সিনেমা অনুরাগীদের মনে এক অমলিন ফ্যান্টাসি হিসেবে ‘বুকমার্ক’ হয়ে রইল।








