Latest News
ফাইল লোপাট’-এর অভিযোগে উত্তপ্ত বেলিয়াবেড়া ব্লক অফিস, ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য ১৩ জন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন মাত্র একজন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ক্ষোভ ও আক্ষেপ বিপজ্জনক কাঠের সেতুতে নিত্য যাতায়াত, ওড়িশা কোস্ট ক্যানেলের উপর কংক্রিটের সেতু গড়ার দাবিতে সরব বাদলপুর হাইকোর্টের নির্দেশে ঘাটাল শহরে উচ্ছেদ হচ্ছে চার দশকের পুরনো বাজার, চরম অনিশ্চয়তায় ব্যবসায়ীরা শূন্যস্থান পূরণে ওস্তাদ ‘অন্যরা’, জুন্টার হাত ধরেই উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরিয়া দিল্লি আরশোলা’দের রুদ্রমূর্তি! পরীক্ষা-দুর্নীতির প্রতিবাদে মার্কিন মুলুক ছেড়ে সোজা যন্তরমন্তরে সিজেপি কর্ণধার
Home » Uncategorized » মার্কিন বোমাবর্ষণের পর ফের অধিকাংশ আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সাইট খুলে দিল ইরান: রিপোর্ট

মার্কিন বোমাবর্ষণের পর ফের অধিকাংশ আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সাইট খুলে দিল ইরান: রিপোর্ট

Share:

ওয়াশিংটন ডিসি: দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে খনন ও মেরামতির পর ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোর একটি বড় অংশের প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করতে সফল হয়েছে। সিএনএন-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনা সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলি বন্ধ করে দেওয়ার মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশল বা ‘বম্বিং স্ট্র্যাটেজি’-র সীমাবদ্ধতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। সিএনএন-এর খতিয়ে দেখা স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট ধরা পড়েছে যে, মার্কিন এবং ইজরায়েলি হানায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি ভূগর্ভস্থ মিসাইল ফেসিলিটির ৬৯টি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথের মধ্যে ৫০টিই সফলভাবে পুনরায় খুলে ফেলেছে ইরানি সেনা। মূলত রাস্তা ধ্বংস করে এবং সুড়ঙ্গের মূল প্রবেশপথগুলি বুজিয়ে দিয়ে তেহরানের মিসাইল ভাণ্ডারের নাগাল পাওয়ার পথ বন্ধ করাই ছিল এই জোড়া হামলার প্রাথমিক লক্ষ্য। কিন্তু সিএনএন জানিয়েছে, এই প্রবল সংঘর্ষ চলাকালীন খনন সরঞ্জামের ওপর বারবার হামলা হওয়া সত্ত্বেও, বুলডোজার এবং ডাম্প ট্রাকের মতো তুলনামূলকভাবে সাধারণ নির্মাণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেই ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করেছে ইরান। বিশেষজ্ঞরা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং টেকসই। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজ-এ ইরানের মিসাইল প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষণারত গবেষক স্যাম লেয়ার জানিয়েছেন, যদিও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, তবুও লঞ্চার এবং ক্রু বা কর্মী থাকলে ইরান মিসাইল উৎক্ষেপণ চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাতেই রয়েছে। কারণ, ইরানের হাতে এখনও যে বিপুল পরিমাণ মিসাইলের ভাণ্ডার রয়েছে, তা দিয়ে লঞ্চারগুলিকে সজ্জিত করতে কোনও বাধা নেই। সিএনএন-এর রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের সময় মিসাইল উৎক্ষেপণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও, ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ ফেসিলিটিগুলির অ্যাক্সেস পুনরুদ্ধার করে গোটা সংঘর্ষ জুড়েই মিসাইল হামলা চালিয়ে গিয়েছিল তেহরান। সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এই খনন ও মেরামতির কাজ আরও দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। মার্কিন ও ইজরায়েলি হানায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামত করার পাশাপাশি বেশিরভাগ বোমার গর্ত বুজিয়ে ফেলে বেশ কিছু রাস্তা নতুন করে তৈরি করা হয়েছে বলেও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গিয়েছে। স্যাম লেয়ার এই প্রসঙ্গে ট্যাকটিক্যাল এবং স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত সাফল্যের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্যাকটিক্যাল সাফল্য এনে দিতে পারদর্শী এবং ইরানের মিসাইল ফোর্সকে ধ্বংস ও অবদমিত করা তারই একটি বড় উদাহরণ। কিন্তু এর সঙ্গে যদি যুক্তিসঙ্গত কৌশলগত যুদ্ধের লক্ষ্য না থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত তা কৌশলগত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে। সিএনএন আরও জানিয়েছে যে, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সাময়িক চুক্তি হলেও, তা বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা এখনও চলছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি ফের সংঘাত শুরু হয়, তবে আগের সমস্ত আক্রমণ সত্ত্বেও তেহরান তাদের এই শক্তিশালী মিসাইল উৎক্ষেপণ ক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, সিএনএন-এর এই দাবির প্রেক্ষিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সুনির্দিষ্ট কোনও মন্তব্য না করে শুধুমাত্র নিজেদের আগের একটি বিবৃতি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, আমেরিকার সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্টের বেছে নেওয়া সময় ও স্থানে আঘাত হানার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সব রকম প্রস্তুতি রয়েছে।

Leave a Comment