- ভোপাল: পণের দাবিতে প্রাক্তন মডেলকে খুনের অভিযোগে অবশেষে আইনের কড়া গেরোয় পড়লেন স্বামী ও শাশুড়ি। ভোপালের বহুচর্চিত তৃষা শর্মা মৃত্যু রহস্যে মঙ্গলবার ধৃত স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল বিশেষ সিবিআই আদালত। আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত জেলের চার দেওয়ালই হতে চলেছে প্রাক্তন জেলা বিচারক শাশুড়ি ও তাঁর ছেলের নতুন ঠিকানা।
গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৩৩ বছর বয়সি প্রাক্তন মডেল তথা অভিনেত্রী তৃষা শর্মার ঝুলন্ত দেহ। এরপরই মেয়ের মৃত্যুর জন্য শ্বশুরবাড়ির দিকেই পণের দাবিতে জোরালো অত্যাচারের আঙুল তোলে তৃষার পরিবার। অন্যদিকে, প্রাক্তন বিচারক শাশুড়ি গিরিবালা বৌমার চরিত্রহননে মেতে দাবি করেছিলেন, তৃষা মানসিক অবসাদে ভুগতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, প্রভাব খাটিয়ে তদন্তের মোড় ঘোরানোর অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রথমদিকে স্বামী সমর্থও পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পলাতক ছিলেন, এমনকি তাঁর মাথার দাম ৩০ হাজার টাকা ধার্য করেছিল প্রশাসন। কিন্তু সেইসব তত্ত্বে চিঁড়ে ভেজেনি। চারপাশের ক্রমবর্ধমান চাপ ও জনরোষের মুখে পড়ে অবশেষে মধ্যপ্রদেশ সরকার গোটা ঘটনার তদন্তভার তুলে দেয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে।
তদন্তের ভার কাঁধে নিয়েই জোরকদমে আসরে নামে সিবিআই। সোমবার খোদ ডামি ব্যবহার করে অপরাধের রাতের দৃশ্য পুনর্নির্মাণ করেন ফরেন্সিক ও ক্রাইম সিনের দুঁদে কর্তারা। কালান্তক সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে স্বামী ও শাশুড়িকে দফায় দফায় জেরা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। সিবিআইয়ের হেফাজতের মেয়াদ ফুরোতেই মঙ্গলবার ভোপালের বিচারক শোভনা ভালাভের এজলাসে দু’জনকে পেশ করা হলে আদালত তাঁদের ১৪ দিনের জন্য জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। একদিকে প্রভাবশালী শাশুড়ির আইনি মারপ্যাঁচ, অন্যদিকে পলাতক স্বামীর লুকোচুরি—সব মিলিয়ে তৃষা শর্মার মৃত্যু রহস্য যেন বলিউডি থ্রিলারকেও হার মানাচ্ছিল। তবে জেলের গরাদ আপাতত প্রমাণ করে দিল, আইনের হাত সত্যিই লম্বা! এখন দেখার, জেলের চার দেওয়ালের মাঝে এই হাই-প্রোফাইল মৃত্যুর আসল রহস্যের জট খোলে কি না।







