অসলো: ২৮ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অবশেষে ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে ফুটবল দল। আসন্ন বিশ্বকাপের আসরে নিজেদের অভিযান শুরু করার আগে দলের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হ্যালান্ডকে প্রশংসায় ভরালেন নরওয়ের জাতীয় দলের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেন। দলের এই অন্যতম প্রধান স্ট্রাইকারকে তিনি ‘মাটির কাছাকাছি থাকা এক সহজ-সরল সুপারস্টার’ (ইজি-গোয়িং সুপারস্টার) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সোলবাকেন জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে চূড়ান্ত খ্যাতি, একাধিক রেকর্ড এবং ক্লাব ফুটবলে রাশি রাশি ট্রফি জেতা সত্ত্বেও ম্যাঞ্চেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকারের মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।
ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোলবাকেন জানিয়েছেন, কোচ হিসেবে হ্যালান্ডকে পরিচালনা করা অত্যন্ত সহজ একটি কাজ। কারণ, সে সবসময় দলের ভালো চায়, সতীর্থদের সঙ্গে থাকতে ভালোবাসে এবং দলের সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গেও দারুণ মজা করে সময় কাটায়। এই যোগ্যতা অর্জন যে গোটা দেশ এবং বিশেষত নরওয়ের সাধারণ ফুটবল ভক্তদের কাছে কতটা আবেগের, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কোচ। নিজে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের স্কোয়াডে ছিলেন সোলবাকেন। দীর্ঘ আঠাশ বছর পর ফের বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা নিয়ে তিনি জানান, যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত হওয়ার পর মাইনাস চার ডিগ্রি সেলসিয়াসের প্রবল ঠান্ডার মধ্যেও প্রায় পঞ্চাশ হাজার সমর্থক তাঁদের অভিবাদন জানাতে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। যোগ্যতা অর্জন পর্বের একটি ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারানোর পরেই সকলে বুঝে গিয়েছিলেন যে এবার আর তাঁদের থামানো যাবে না। এই সাফল্যের পর তিনি শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা চিকিৎসক এবং ফিজিওদের জন্যও অত্যন্ত স্বস্তি বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।
আসন্ন বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ আই’-তে শক্তিশালী ফ্রান্স, সেনেগাল এবং ইরাকের সঙ্গে জায়গা পেয়েছে নরওয়ে। অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞই নরওয়েকে এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ বা অপ্রত্যাশিত চমক হিসেবে তকমা দিচ্ছেন। তবে এই তকমার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন কোচ সোলবাকেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট দিনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা দলের থাকলেও, গোটা টুর্নামেন্টের নিরিখে তাঁদের ‘ডার্ক হর্স’ বলাটা একটু বাড়াবাড়ি। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে তাঁরা অত্যন্ত কঠিন একটি গ্রুপে রয়েছেন, যেখানে ফ্রান্স অবধারিতভাবে ফেভারিট এবং বাকি তিনটি দেশকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য তীব্র লড়াই করতে হবে। তবে দলের সংগঠন এবং ম্যাচ জেতানো ফুটবলারদের ওপর পূর্ণ ভরসা রাখছেন কোচ। সোলবাকেন জানান, এই বিশ্বকাপ নরওয়ের কাছে নিজেদের প্রমাণ করার এবং বিশ্বমঞ্চে এক নতুন ধরনের আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়ার সেরা সুযোগ, যেখানে দলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা একে অপরের জন্য লড়াই করবে। নিজের ব্যক্তিগত স্বপ্ন নিজের কাছেই গোপন রেখে নরওয়ের কোচ আশাপ্রকাশ করেছেন যে, নিজেদের সেরা দিনে তাঁরা বিশ্বের যে কোনও দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখেন।







