“আদিত্য ধরের স্পাই-থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’ একাই ২৪টি মনোনয়ন ছিনিয়ে নিয়ে বিনোদন দুনিয়ায় এক নতুন সিনে-আধিপত্যের সংকেত দিচ্ছে।”—মুম্বইয়ের মায়ানগরীতে আজ রবিবারের রাতটি কেবল পুরস্কার বিতরণের নয়, বরং দীর্ঘ দুই দশকের এক দীর্ঘশ্বাস মোচনের রাত। ২০ বছর পর ছোটপর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ফিরে আসা ‘চেতক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ আদতে সমকালীন হিন্দি সিনেমার এক বিবর্তনকামী দর্পণ। প্রেক্ষাগৃহ এবং ওটিটি (OTT)—উভয় মাধ্যমের ৩১টি বিভাগে সেরার শিরোপা কার মাথায় উঠবে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।
এবারের মনোনয়নের তালিকায় ‘ধুরন্ধর’-এর একচ্ছত্র দাপটের ঠিক পরেই ১৭টি মনোনয়ন নিয়ে লড়াইয়ে আছে মোহিত সুরির মিউজিক্যাল ড্রামা ‘সাইয়ারা’। বিচারপ্রক্রিয়াতেও আনা হয়েছে এক বিশেষ আভিজাত্য; কোনো বাণিজ্যিক অঙ্ক নয়, বরং ৫০ জন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত এক স্বাধীন অ্যাকাডেমি বিজয়ীদের নির্বাচন করেছে। এই নিরপেক্ষ বিচারমন্ডলী প্রমাণ করতে চায় যে, চলচ্চিত্রের উৎকর্ষ কেবল বক্স অফিসের নিরিখে মাপা যায় না।
অনুষ্ঠানের গ্ল্যামারে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে আলিয়া ভাটকে। তবে এবারের আয়োজনে এক অভিনবত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে—আলিয়ার সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেবেন কৌতুকাভিনেতা সুনীল গ্রোভার এবং জাকির খান। এমনকি এই বিনোদনমূলক আয়োজনে সাংবাদিকসুলভ গাম্ভীর্য ধরে রাখতে থাকছেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের হিন্দি সম্পাদক সৌরভ দ্বিবেদীও।
শেষের কথা: প্রথা বনাম আধুনিকতা ২০২৬-এর এই আসর আদতে এক লিটমাস টেস্ট। ওটিটির দাপট বনাম বড় পর্দার নস্টালজিয়া—এই দ্বৈরথে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা আজ রবিবার রাতেই স্পষ্ট হবে। কুড়ি বছরের এই প্রত্যাবর্তন কি পারবে বলিউডের সেই হারানো কৌলীন্য পুনরুদ্ধার করতে? উত্তর দেবে সময়।








