Home » Uncategorized » পড়াশোনায় কৃপণ, বিয়েতে উদার! ‘দেখানোর দৌড়ে’ দ্বিগুণ খরচে ডুবছে ভারত

পড়াশোনায় কৃপণ, বিয়েতে উদার! ‘দেখানোর দৌড়ে’ দ্বিগুণ খরচে ডুবছে ভারত

Share:

 

পরিবারগুলো সন্তানদের পড়াশোনার চেয়ে বিয়েতে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেশি টাকা খরচ করছে—আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN–এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এই রিপোর্ট বলছে, দেশের বিয়ের বাজারের আকার প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার—যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ‘সোশ্যাল ইভেন্ট ইকোনমি’। একই সঙ্গে গড় ভারতীয় পরিবার বিয়েতে যে খরচ করে, তা অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের শিক্ষার খরচের প্রায় দ্বিগুণ।

খরচের কাঠামো: এক দিনের আয়োজন, বহু বছরের বোঝা

তথ্য অনুযায়ী—
ভারতে একটি মধ্যবিত্ত বিয়ের খরচ কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই খরচ পৌঁছয় কয়েক মিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারি রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে—
একজন ভারতীয় ছাত্রের স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত গড় শিক্ষাখরচ, বহু ক্ষেত্রে একটি ‘গ্র্যান্ড ওয়েডিং’-এর অর্ধেকেরও কম।

অর্থনীতির ভাষায়: ‘ব্যাড এক্সপেনডিচার’

অর্থনীতির পরিভাষায় এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় বা অনুৎপাদনশীল ব্যয়—যেখানে টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে না ভবিষ্যৎ আয়ের উৎসে (যেমন শিক্ষা), বরং খরচ হচ্ছে একদিনের সামাজিক প্রদর্শনীতে।

এই খরচের বড় অংশ যায়—
সোনা ও গয়নায়
বিলাসবহুল ভেন্যু
ক্যাটারিং ও ডেকোরেশন
এবং বহু ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক ‘গিফট’ বা পণ

সামাজিক চাপই মূল চালিকাশক্তি

রিপোর্টে উঠে এসেছে, এই বিপুল ব্যয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ সামাজিক বাধ্যবাধকতা।
“কে কী বলবে”—এই মানসিকতা পরিবারকে ঠেলে দিচ্ছে ঋণের দিকে।

মুম্বইয়ের এক নববধূর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে—
সামান্য আয়ের পরিবার হয়েও তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে ঋণ নিয়ে বিয়ের খরচ মেটাতে হয়েছে।

বিপজ্জনক বাস্তব: ঋণ, পণ, সহিংসতা

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ৬ হাজারের বেশি পণ-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঘটনা রিপোর্ট হয়—যা এই ‘বিয়ের অর্থনীতি’র অন্ধকার দিককে স্পষ্ট করে।

বিকল্প পথ: গণবিবাহ, সীমিত আয়োজন

খরচ কমাতে কিছু পরিবার এখন গণবিবাহ বা ছোট আকারের অনুষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে।
তবে তা এখনও ব্যতিক্রম—মূল স্রোত এখনও ‘বড় বিয়ে, বড় দেখানো’।

Leave a Comment