ক্রীড়া প্রতিবেদক, আহমেদাবাদ: মোতেরার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ এলিমিনেটর ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু এই মহাগুরুত্বপূর্ণ জয়ের পরেও আত্মতুষ্টির বৃত্তে বন্দি হতে নারাজ রাজস্থান শিবির। বরং ম্যাচ জয়ের ঠিক পরেই এক অদ্ভুত এবং কড়া সতর্কবার্তা শোনা গেল দলের তারকা ইংরেজ পেসার জোফ্রা আর্চারের মুখে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করার পর আর্চার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “পঞ্জাব কিংসের যা দশা হয়েছিল, আমরা চাই না আমাদের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটুক।” জয়ের উদযাপনের মাঝেই সতীর্থদের মাটিতে পা রেখে চলার এবং আগামী ম্যাচের জন্য সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করার এক প্রচ্ছন্ন বার্তাই দিলেন এই গতিরাজ, যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে।
গতকালের ম্যাচে হায়দরাবাদ এবং রাজস্থানের লড়াইকে অনেকেই প্যাট কামিন্স বনাম জোফ্রা আর্চারের গতির যুদ্ধ হিসেবে দেখছিলেন। সেই হাই-প্রোফাইল দ্বৈরথে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হেসেছে রাজস্থানই। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার রাজস্থানের সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ করে ডেথ ওভারে আর্চারের বিষাক্ত ইয়র্কার ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং হায়দরাবাদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপকে বড় রান খাড়া করতে দেয়নি। অন্য দিকে, হায়দরাবাদের মারকুটে ওপেনারদের রুখে দিয়ে চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় রাজস্থান। কিন্তু এই মহাগুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর যেখানে মেতে ওঠার কথা, সেখানে আর্চারের এই পঞ্জাব কিংসের প্রসঙ্গ টেনে আনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, পঞ্জাব কিংসের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তারা অনেক সময়ই প্রতিযোগিতার কোনো স্তরে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেলেও, পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পেরে আচমকাই খেই হারিয়ে ফেলে। অতি আত্মবিশ্বাস বা একটি বড় জয়ের পর মানসিক শৈথিল্যই তাদের বারবার ট্রফি জয়ের দৌড় থেকে ছিটকে দিয়েছে। আর্চার মূলত সেই মানসিকতার বিরুদ্ধেই সতীর্থদের সতর্ক করতে চেয়েছেন। এলিমিনেটর জয় মানেই যে কাজ শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং খেতাব জিততে হলে এখনও যে কঠিন বাধা পার করতে হবে— সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাজস্থান রয়্যালস যাতে কোনোভাবেই পঞ্জাবের মতো পরিস্থিতির শিকার না হয় এবং জয়ের এই ছন্দ বজায় রেখে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাতে পারে, সেটাই এখন এই পেসারের প্রধান লক্ষ্য।
রাজস্থান শিবিরের অন্দরমহল সূত্রে খবর, দলের কোচিং স্টাফ এবং ম্যানেজমেন্টও আর্চারের এই পেশাদার ও লড়াকু মনোভাবকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আইপিএলের মতো লম্বা এবং কঠিন প্রতিযোগিতায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফোকাস ধরে রাখাটাই আসল চাবিকাঠি। এলিমিনেটরের বাধা টপকানোর পর রাজস্থানের সামনে এখন কোয়ালিফায়ার-২ এর কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেখানে তাদের মুখোমুখি হতে হবে লিগ টেবিলের অন্য এক মহাশক্তিশালী দলের। আর্চারের গতির আগুন এবং দলের ব্যাটারদের এই সম্মিলিত ফর্ম আগামী ম্যাচেও বজায় থাকে কি না, এবং আর্চারের আশঙ্কামতো কোনো অঘটন এড়িয়ে রাজস্থান রয়্যালস ফাইনালের টিকিট পাকা করতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার।







