Latest News
ফাইল লোপাট’-এর অভিযোগে উত্তপ্ত বেলিয়াবেড়া ব্লক অফিস, ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য ১৩ জন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন মাত্র একজন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ক্ষোভ ও আক্ষেপ বিপজ্জনক কাঠের সেতুতে নিত্য যাতায়াত, ওড়িশা কোস্ট ক্যানেলের উপর কংক্রিটের সেতু গড়ার দাবিতে সরব বাদলপুর হাইকোর্টের নির্দেশে ঘাটাল শহরে উচ্ছেদ হচ্ছে চার দশকের পুরনো বাজার, চরম অনিশ্চয়তায় ব্যবসায়ীরা শূন্যস্থান পূরণে ওস্তাদ ‘অন্যরা’, জুন্টার হাত ধরেই উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরিয়া দিল্লি আরশোলা’দের রুদ্রমূর্তি! পরীক্ষা-দুর্নীতির প্রতিবাদে মার্কিন মুলুক ছেড়ে সোজা যন্তরমন্তরে সিজেপি কর্ণধার
Home » Uncategorized » গাছের প্রাণেও যে বড্ড লাগে! ভোটের শেষে পেরেক-ফ্লেক্স উপড়ে খড়্গপুরের তরুদের ‘ফার্স্ট এইড’ বন দফতরের

গাছের প্রাণেও যে বড্ড লাগে! ভোটের শেষে পেরেক-ফ্লেক্স উপড়ে খড়্গপুরের তরুদের ‘ফার্স্ট এইড’ বন দফতরের

Share:

নিজস্ব সংবাদদাতা • খড়্গপুর

শহরে এমনিতেই সবুজের আকাল। মাথা গোঁজার ঠাঁই বানাতে আর রাস্তা চওড়া করার ঠেলায় বেচারা গাছগুলোর অস্তিত্ব রীতিমতো সংকটে। যে গুটিকয়েক গাছ এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাদেরও রেহাই নেই। কারণ, বিজ্ঞাপনী সংস্থা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতামন্ত্রীদের কাছে এই গাছগুলোই হল একেবারে নিখরচার বিলবোর্ড! গাছের গায়ে নির্দয়ভাবে লম্বা লম্বা পেরেক ঠুকে ফ্লেক্স, ব্যানার আর পোস্টার ঝোলানোর এমন এক অলিখিত প্রতিযোগিতা চলে, যেন গাছগুলো স্রেফ এক একটা কাঠের খুঁটি। দিনের পর দিন এই পেরেক-যন্ত্রণায় নীরবে ধুঁকতে থাকা সেই গাছদের মুখেই এবার হাসি ফোটানোর বন্দোবস্ত করল বন দফতর। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে খড়্গপুর শহরে গাছ থেকে এই সমস্ত বেআইনি ফ্লেক্স আর পেরেক উপড়ে ফেলার এক জোরদার অভিযান শুরু হয়েছে।

এমনিতে এই পেরেক ঠোকার বিরুদ্ধে পরিবেশপ্রেমী আর নাগরিক সমাজের ক্ষোভ আজকের নয়। নির্বাচন এলেই এই উৎপাত যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। দেওয়াল দখলের পাশাপাশি গাছের বুক চিরে রাজনৈতিক দলের প্রচারের এই রীতি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি এতকাল। তবে এবার ভোট মিটতেই যেন ঘুম ভেঙেছে প্রশাসনের। বন দফতরের কর্তারা স্বয়ং মাঠে নেমেছেন। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে গাছের গা থেকে পেরেক তুলে ব্যানার, ফ্লেক্স নামানোর কাজ চলছে জোরকদমে। দৃশ্যতই, পেরেক আর প্লাস্টিকের জঞ্জাল থেকে কার্যত মুক্তি পেয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচছে শহরের সবুজ।

বন দফতরের এই অভিযানে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন খড়্গপুরের পরিবেশকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা যে দাবি জানিয়ে আসছিলেন, অবশেষে তা বাস্তবায়িত হতে দেখে তাঁরা প্রশাসনকে সাধুবাদও জানিয়েছেন। তবে বন দফতরের কর্তারাও বেশ বুঝতে পারছেন, শুধু একদিন পেরেক উপড়ে দিলেই এই ব্যাধির শিকড় উপড়ানো যাবে না। তাই জোর দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর। আধিকারিকদের সাফ কথা, গাছ আমাদের শুধু অক্সিজেনই দেয় না, পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় রাখে। তাই সামান্য কিছু বিজ্ঞাপনের লোভে গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে তাদের কার্যত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়াটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এখন দেখার, বন দফতরের এই কড়া দাওয়াইয়ে শহরের মানুষ আর বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর সত্যিই কতটা টনক নড়ে, নাকি কিছুদিন পর ফ্লেক্সের ভূত ফের গাছের ঘাড়েই চাপে!

Leave a Comment