ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং বিদেশি নজরদারির বাস্তবতাকে ধামাচাপা দিতে গিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শনিবার (৪ এপ্রিল, ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে এখনও চিনা সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রয়েছে এবং নিষিদ্ধ চিনা অ্যাপগুলো নাম বদলে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগের মূল ভিত্তি: রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন যে, গত ২৫ শে মার্চ তিনি লোকসভায় ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন রেখেছিলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল—বর্তমানে ব্যবহৃত ক্যামেরাগুলো কোন দেশের তৈরি? কতগুলো ক্যামেরা নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেয়েছে? কোন কোন বিদেশি এআই (AI) প্ল্যাটফর্ম সরকারি তথ্য প্রসেস করছে? এবং কোন কোন নিষিদ্ধ অ্যাপ নাম বদলে কাজ চালাচ্ছে? রাহুলের অভিযোগ, সরকার প্রচুর শব্দ খরচ করে উত্তর দিলেও তাঁর একটি প্রশ্নেরও নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান বা উত্তর দেয়নি। এমনকি কোনো একটি প্ল্যাটফর্মের নাম পর্যন্ত উল্লেখ করেনি মন্ত্রক।
বিদেশি নজরদারির ষড়যন্ত্র: বিরোধী দলনেতার দাবি, প্রায় ১০ লক্ষ চিনা ক্যামেরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে যা তথ্য পাচারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ বছর আগে এই ঝুঁকির কথা স্বীকার করা হলেও, আজ পর্যন্ত সরকার স্পষ্ট করেনি যে বর্তমানে আমাদের ওপর নজর রাখা ক্যামেরাগুলো সুরক্ষিত কি না। তিনি বলেন, “এটি ভারতকে অন্ধকারে রাখার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।” এর পাশাপাশি বিদেশি এআই প্ল্যাটফর্মগুলো যেভাবে স্পর্শকাতর তথ্য নাড়াচাড়া করছে, তা নিয়ে সরকারের নীরবতা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
কেন্দ্রীয় সরকারের সাফাই: রাহুল গান্ধীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ জানিয়েছেন যে, ভারত সরকার সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। তিনি দাবি করেছেন যে, ২০২১ সাল থেকে ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডাইরেক্টিভ অন ট্রাস্টেড সোর্সেস’ কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে শুধুমাত্র বিশ্বস্ত উৎস থেকেই টেলিকম সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে। এছাড়া টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট, ২০২৩ এবং ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে আইনি পরিকাঠামো শক্তিশালী করার দাবিও করেছে সরকার। সিসিটিভি ক্যামেরার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
উপসংহার: সরকার নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেও রাহুল গান্ধীর প্রশ্নগুলো ভারতের ডিজিটাল সুরক্ষা ব্যবস্থার ফাটলগুলোকেই প্রকট করে তুলেছে। জননিরাপত্তা কি সত্যিই সুরক্ষিত, নাকি কেবল আইনি শব্দজালের আড়ালে ব্যর্থতা লুকানোর চেষ্টা চলছে—এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।







