Latest News
ফাইল লোপাট’-এর অভিযোগে উত্তপ্ত বেলিয়াবেড়া ব্লক অফিস, ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য ১৩ জন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন মাত্র একজন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ক্ষোভ ও আক্ষেপ বিপজ্জনক কাঠের সেতুতে নিত্য যাতায়াত, ওড়িশা কোস্ট ক্যানেলের উপর কংক্রিটের সেতু গড়ার দাবিতে সরব বাদলপুর হাইকোর্টের নির্দেশে ঘাটাল শহরে উচ্ছেদ হচ্ছে চার দশকের পুরনো বাজার, চরম অনিশ্চয়তায় ব্যবসায়ীরা শূন্যস্থান পূরণে ওস্তাদ ‘অন্যরা’, জুন্টার হাত ধরেই উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরিয়া দিল্লি আরশোলা’দের রুদ্রমূর্তি! পরীক্ষা-দুর্নীতির প্রতিবাদে মার্কিন মুলুক ছেড়ে সোজা যন্তরমন্তরে সিজেপি কর্ণধার
Home » Entertainment » ন্যানোর শোক কেটে এবার কি ‘চিপ’-এর চমক? শমীকের দাপুটে প্রতিশ্রুতি এবং বাংলায় টাটার নতুন শিল্প-ভাবনা

ন্যানোর শোক কেটে এবার কি ‘চিপ’-এর চমক? শমীকের দাপুটে প্রতিশ্রুতি এবং বাংলায় টাটার নতুন শিল্প-ভাবনা

Share:

 

 

সুনীপম মহাকুলঃ সিঙ্গুরের সেই ঝড়ো ইতিহাস এখনো বাংলার রাজনীতির বাতাসে ঘুরপাক খায়। ন্যানো গাড়ি চলল না, কিন্তু তাই বলে কি টাটার সাথে বাংলার সম্পর্ক সপ্তম সুরেই থাকবে? রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যখন বলেন যে তারা টাটাকে ফিরিয়ে আনবেই, তখন শুধু পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটা নয়, বরং একটা নতুন ভাবনার দরজাও খুলে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এবার এলে টাটা কি আর সেই এক লাখ টাকার গাড়ি বানাতে বসবে? নিশ্চয়ই নয়। গঙ্গার জলে অনেক জল বয়ে গেছে, এবং টাটা গ্রুপও এখন শুধু লোহা-লক্কড় আর গাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তারা এখন ফিউচারিস্টিক, হাই-টেক এবং জেট-স্পিডে চলা এক কর্পোরেট মহাবৃক্ষ। তাই টাটা যদি সত্যিই এবার বাংলায় ‘ঘর ওয়াপসি’ করে, তবে তাদের শিল্পের মেনুতে থাকবে একদম নতুন সব পদ।

এখনকার বাজওয়ার্ড হলো ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভি। টাটা মোটরস এখন দেশের ইভি মার্কেটের মুকুটহীন সম্রাট। বাংলায় যদি তারা আসে, তবে পুরনো সেই গাড়ির কারখানার বদলে এখানে একটা বিশাল ইভি ইকোসিস্টেম বা ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট গড়ে উঠতে পারে। খড়গপুর বা আসানসোলের মতো শিল্পাঞ্চলে ইলেকট্রিক গাড়ির কম্পোনেন্ট তৈরি বা কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক ভেহিকেল অ্যাসেম্বলির বিশাল সুযোগ রয়েছে। এটা হলে শুধু ধোঁয়াহীন পরিবহনই নয়, বরং রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য একটা বিশাল কর্মসংস্থানের দরজাও খুলে যাবে, যা হয়তো পুরনো ন্যানোর চেয়েও অনেক বেশি লাভজনক হবে।

গাড়ির চাকা ছাড়াও এখন টাটার চোখ যেখানে, সেটা হলো সিলিকন চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর। গুজরাটের ধোলেরা বা আসামে টাটা এখন বিশাল সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন ইউনিট তৈরি করছে। বাংলায় হয়তো রাতারাতি মেগা ফ্যাব হবে না, কিন্তু চিপ ডিজাইন, টেস্টিং, এবং পিসিবি অ্যাসেম্বলির মতো সেকেন্ডারি সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের জন্য কলকাতা বা তার আশেপাশের এলাকা একদম আদর্শ। রাজারহাটে টিসিএস-এর বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এখানে টেক-ট্যালেন্টের অভাব নেই। তাই টাটা ইলেকট্রনিক্স যদি এখানে পা রাখে, তবে টেক-শিল্পে বাংলার ছেলেমেয়েদের আর বেঙ্গালুরু বা হায়দ্রাবাদে ছুটে যেতে হবে না, ঘরের ছেলে ঘরেই সিলিকনের ভবিষ্যৎ গড়বে।

এরপরেই আসে গ্রিন এনার্জি এবং লজিস্টিকস। টাটা পাওয়ার এখন দেশজুড়ে সোলার প্যানেল এবং রিনিউয়েবল এনার্জির ওপর বিশাল ইনভেস্ট করছে। বাংলার উপকূলবর্তী এলাকা বা উত্তরবঙ্গের বিশাল জমিতে সোলার পার্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে টাটা একটা বড় ভূমিকা নিতে পারে। তার সাথে সাথে, রাজ্যে যখন তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর বা পোর্ট-লেড ডেভেলপমেন্টের কথা হচ্ছে (যেখানে সিঙ্গাপুর পোর্টস-এর মতো আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীদের নজর রয়েছে), তখন টাটার মতো বিশাল সাপ্লাই চেইন এবং লজিস্টিকস কোম্পানির এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে ব্যবহার করে টাটা তাদের অ্যারোস্পেস এবং ডিফেন্স কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ছোটখাটো ইউনিটও এখানে খুলতে পারে, যা কৌশলগতভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

শেষমেশ, রাজনীতির স্লোগান আর শিল্পের বাস্তবতার মধ্যে একটা বড় তফাৎ থাকে। শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিশ্রুতি শুনতে ভালো লাগলেও, টাটার মতো প্রথিতযশা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনতে গেলে প্রয়োজন সুস্থ শিল্পনীতি, জমি সমস্যার স্পষ্ট সমাধান এবং একটা বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ। টাটা যদি সত্যিই ফিরে আসে, তবে সেটা হবে বাংলার শিল্প-ভাবনার একটা বদলে যাওয়া রূপ—যেখানে পুরনো ভেদাভেদ ভুলে, একটি ফিউচারিস্টিক, হাই-টেক এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পের জোয়ার-বাতাস বইবে। এবার দেখার, সিঙ্গুরের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন এবার নতুন কোনো প্রযুক্তির রূপে বাংলার মাটিতে বাস্তব রূপ পায় কিনা।

Leave a Comment